fbpx

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি : অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিদ্যুৎ না থাকলে কি করবেন ?

ভয়ংকর কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে বলতে গেলে অনির্দিস্ট কালের জন্যই বাসায় বন্দী আছি আমরা। এখন আমাদের বিদ্যুৎ আছে, ইন্টারনেট আছে। কিন্তু কোন কারণে যদি ইলেকট্রিসিটি  চলে যায় এবং বেশ লম্বা সময় ধরে তা যদি না আসে তাহলে আপনার মাছের ট্যাঙ্কে( অ্যাকুরিয়ামে) অক্সিজেনের সংকট হতে পারে।

এরকম ইমারজেন্সি সিচুয়েশন বিবেচনা করে আজকে আমাদের এই আয়োজন এখানে আজ আমরা দেখাবো যে কিভাবে হাতের কাছে থাকা সাধারণ কিছু জিনিস দিয়ে আপনি আপনার মাছদেরকে অক্সিজেন অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও অক্সিজেন দিতে পারেন।

যা যা লাগবে

১। একটি হাফ লিটারের খালি কোমলপানীয়ের বোতল ( কোকাকোলা, ফান্টা, পেপসি, যে কোন একটি)

২। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, দুই বোতল ( যে কোন ফার্মাসিতে পেয়ে যাবেন)

৩। গোল আলু, খোসা ছাড়ানো,  ছোট করে কাটা, যেন বোতলের মুখ দিয়ে সহজেই ঢুকে যায়।

৪। আপনার এয়ারপাম্পের এয়ারলাইনার টিউব এবং এয়ারস্টোন।

৫। সিলিকন অথবা গালা অথবা মোম

কিভাবে করবেন 

বোতলের ক্যাপের মাঝে একটি ছিদ্র করে তাতে এয়ারলাইনার টিউব ঢুকিয়ে দিতে হবে। এরপর সিলিকন, গালা অথবা মোম দিয়ে সেই ছিদ্র এবং পাইপের আশেপাশে ভালো করে লাগিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ এয়ারটাইট করে ফেলতে হবে। মনে রাখবেন এই অংশটুকু খুব গুরত্বপূর্ণ। ছিদ্রটির চারপাশ পুরোপুরি এয়ারটাইট না হলে কিন্তু যা করতে যাচ্ছেন তা হবে না। অর্থাৎ আপনার সাফল্যের পুরোটাই নির্ভর করছে এটি এয়ারটাইট করার উপর !

এবার আলুর টুকরোগুলি বোতলে দিয়ে দিন, এরপর তাতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভরুন। এবার ক্যাপ লাগিয়ে এয়ারলাইনার বা পাইপের অপর প্রান্তের সাথে এয়ারস্টোন লাগিয়ে ট্যাঙ্কে রেখে দিন।

কিছুক্ষণ পর দেখবেন আপনার এয়ারস্টোন থেকে বুদবুদ উঠছে।

পটেটো বা আলুর সাথে হাইড্রোজেন পারক্সাইড রাসায়নিক বিক্রিয়া করে সরাসরি অক্সিজেন তৈরি করে। সেই অক্সিজেনই এখন আপনার এয়ারস্টোন থেকে বুদবুদ হিসাবে উঠছে। এবং এটি একেবারে শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন। ট্যাঙ্ক বড় হলে এরকম একাধিক বোতল ব্যাবহার করে একাধিক এয়ারস্টোন দিন।

এভাবে চরম বৈদ্যুতিক বিপর্যয়ের সময় আপনার মাছদের কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেন দিতে পারবেন।

মাছ সারফেসে উঠে এসেছে, অক্সিজেনের অভাবে হাঁসফাঁস করছে একজন অ্যাকুয়ারিস্ট হিসাবে  এরকম বেদনাদায়ক দৃশ্য অন্তত আপনাকে দেখতে হবে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *