fbpx

দোকান থেকে কিনে আনা নতুন মাছ যেভাবে ট্যাঙ্কে ছাড়বেন !

আমরা দোকান থেকে মাছ কিনে এনে প্রথমেই মারাত্মক যে ভুলটা করি সেটা হল তাদেরকে আচমকা ট্যাঙ্কে নিয়ে ছেড়ে দেই। এমনকি যে পলিব্যাগে করে মাছটা আনি সেই পলিব্যাগের পানিও ট্যাঙ্কের ভিতর দিয়ে দেই। এটা আরো বড় ভুল। কেননা ঐ পানিতে করে আপনার ট্যাঙ্কে সরাসরি জীবানু ও প্যারাসাইট চলে আসতে পারে। বাজার থেকে পলিব্যাগে মাছ এনে সেটা ট্যাঙ্কে ছাড়ার কিছু নির্দিস্ট নিয়ম সারা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। এরকম দুটি পদ্ধতি নীচে আলোচনা করা হল

ড্রিপ এক্লিমেশন

এই পদ্ধতিটি আসলে কিছুটা সংবেদনশীল ফ্রেশওয়াটার ফিশ যেমন ডিসকাস, জার্মান ব্লু রাম, ডোয়ার্ফ সিকলিড, হাই ব্রিডের এঞ্জেল, ফ্যান্সি গাপ্পি, রেইনবো, শ্রিম্প , মেরিন ফিশ এবং মেরিন  ইনভারটিব্রেট  এদের  জন্য প্রযোজ্য। এই পদ্ধতিতে একটা ছোট পাত্রে(বালতি/বোল) আপনার নতুন কেনা মাছ ব্যাগের পানি সহ ছাড়ুন। একটি এয়ার লাইন টিউবের এক প্রান্ত আপনার ট্যাংকে দিন এবং অপর প্রান্তে মুখ দিয়ে শিফন তৈরি করুন।

 

 

 

এরপর একটি নট অর্থাৎ দড়িতে যেভাবে গিট বাঁধে সেভাবে গিঁট বাঁধুন ।  এমন ভাবে যাতে সেকেন্ডে ২-৪ ফোটা করে পানি বের হয়। এরপর এভাবে ধীরে ধীরে  পানি ছাড়তে থাকুন আপনার বোলে আগামী ২-৩ ঘন্টা। এইসময়ের ভিতরে বোলের পানির তাপমাত্রা, Ph, hardness, nitrate মেইন ট্যাংকের সাথে ধীরে ধীরে ম্যাচ করবে এবং আপনার নতুন কেনা মাছও ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সাথে অভ্যস্থ হয়ে যাবে। সবার শেষে একটি নেট দিয়ে মাছ ধরুন এবং মেইন ট্যাংকে ছেড়ে দিন। নীচে কিছু ভালমানের নেট দেওয়া হল। এগুলি থেকে কিনে নিতে পারেন। আপনার যদি একাধিক ট্যাঙ্ক থাকে তাহলে প্রতিটি ট্যাঙ্কের জন্য আলাদা আলদা নেট ব্যাবহার করতে হবে। তা না হলেও আপনার মাছ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। https://aquarium.com.bd/product-category/fish-net/  

আর এয়ার লাইন টিউব হিসাবে কিনে নিতে পারেন এই এয়ার পাইপগুলি। ১০ ফুটেরটা কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

https://aquarium.com.bd/product-category/equipment_accessories/air_flow/air_pipe/  

এছাড়া আরো একটি পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত রয়েছে সে পদ্ধতির বর্ণনা  নীচে দেওয়া হল

মাছ সাধারনত প্লাস্টিক ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে আসি আমরা। যদি মাছ প্যাক করার পরে ৪-৫ ঘন্টা পার হয়ে যায় তাহলে বাসায় এনে ব্যাগের মুখ খোলার দরকার নাই। কারন ব্যাগে থাকা এমোনিয়া বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলে পিএইচ পরিবর্তন হতে পারে। তখন সেটা মাছের জন্য আরো ক্ষতিকর হতে পারে। এরপর ব্যাগটা ফিশ ট্যাংকে ভাসিয়ে দিন ২০-৩০ মিনিটের জন্য এই সময়ে ব্যাগের পানির তাপমাত্রা আপনার ট্যাংকের পানির তাপমাত্রার সাথে এডজাস্ট হবে। এরপর একটি কাচি দিয়ে ব্যাগের মুখটা কেটে মাছগুলোকে খুব সাবধানে নেট দিয়ে ধরে ট্যাঙ্কে ছেড়ে দিন।

 

যদি সরাসরি মাছ ট্যাংকে ছেড়ে দেন তাহলে হটাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারনে মাছ খুবই স্ট্রেসড হয়ে যাবে যার কারনে পরবর্তিতে খাবার না খাওয়া/হটাৎ মরে যাওয়া/লুকিয়ে থাকা/রোগাক্রান্ত হওয়া এইসব হতে পারে। খেয়াল রাখবেন কোনভাবেই যাতে ব্যাগের পানি আপনার ট্যাংকে প্রবেশ না করে। যখন এটা করবেন অবশ্যই একুরিয়ামের লাইট বন্ধ রাখবেন এবং রুমও একটু অন্ধকার রাখার চেস্টা করবেন। অন্ধকার পেলে মাছ ব্যাগ থেকে বের হবার জন্য ছটফট কম করবে এবং কম স্ট্রেসড হবে। এই পদ্ধতি সাধারণত কিছুটা কম সেনসিটিভ মাছ যেমন লাইভ বিয়ারার, অ্যাঞ্জেল, গোল্ডফিশ, জেব্রা দানিও, নিয়ন টেট্রা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ফলো করা যেতে পারে। তবে সারা বিশ্বে একুয়ারিস্টগণ ড্রিপ এক্লিমেশনকেই  তুলনামূলক সেফ মনে করেন। কাজেই আসুন এখন থেকে আমরা একুয়ারিস্ট হিসাবে নিজেদের মাছকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করি ও যত্নের সাথে তাদের ট্যাঙ্কে রিলিজ করি। সারা বিশ্বে যে নিয়ম প্রচলিত আছে সেই নিয়মই আমরা ফলো করার চেস্টা করি। কোন অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত লোকাল একুরিয়ামের  দোকানদারের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বৈশ্বিক নিয়ম ফলো করি।

টেরারিয়াম কি জানতে এখানে ক্লিক করুন 

 

যোগ দিন আমাদের ফেসবুক পেইজে

আরো পড়ুন

আসুন তৈরি করি একটি বেট্টা ট্যাঙ্ক !

মাত্র ২৫০০ টাকায় তৈরি করুন আপনার প্রথম লো টেক প্ল্যান্টেড টেক !

হব ফিল্টার : বেস্ট ফিল্টার ফর বিগিনার্স

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *