fbpx

বেট্টা ফিশের কিছু সাধারণ রোগ এবং এর চিকিৎসা

বেট্টা বা ফাইটার ফিশ এমন একটি মাছ যা একেবারে বিগেইনার লেভেলের অ্যাকুয়ারিস্টদের থেকে শুরু করে একেবারে অ্যাডভান্সড বা প্রো লেভেলে যারা আছেন তাদের মাঝে বেশীরভাগেরই খুব পছন্দের। বিশেষ করে এক্সোটিক জাতের বেট্টা অর্থাৎ ক্রাউনটেইল, ফুলমুন, হাফমুন, প্লাকাট, ডাম্বোইয়ার ইত্যাদিই বেশীরভাগ অ্যাকুয়ারিস্ট তাদের ১২ বা ১৫ কিউবের প্ল্যান্টেড ট্যাঙ্কে রাখার জন্য একেবারে “প্রথম পছন্দ” হিসাবে সিলেক্ট করে থাকেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য বেট্টা খুব সহজেই বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের শিকার হয় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমরা চিকিৎসা করা দূরে থাক আসলে মাছটি কি রোগে আক্রান্ত সেটাই বুঝতে পারি না। তাই আজকে আমরা বেট্টা ফিশের একেবারেই কমন বা সাধারণ কিছু রোগ এবং সেই রোগ হলে তার প্রতিকার/প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

ফিনরট

ফিনরট আর কিছুই না এটা হচ্ছে বেট্টা ফিশের পাখনা এবং লেজে পচন ধরা যাওয়া। এটি একটি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এটা বেট্টার জন্য খুবই কমন একটা রোগ। প্রায় সব বেট্টা কিপারদের অন্তত একবার হলেও এই রোগের মুখোমুখি হতে হয়। এটা সাধারণত খারাপ ওয়াটার কন্ডিশনের জন্য হয়।

প্রতিকার

ফিনরট হয়ে গেলে পুরো ট্যাঙ্কের পানি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে হবে এবং প্রাথমিক ভাবে ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে আপনার প্রিয় বেট্টাফিশটিকে বাঁচাতে নীচের ওষুধটি প্রয়োগ করতে হবে। https://aquarium.com.bd/product/api-melafix-treats-bacterial-fish-infections237ml/ এরপর যেকোন একটি এন্টিফাংগাল মেডিসিন ইউজ করতে হবে যার মাধ্যমে পরবর্তিতে আপনার মাছটি যেন কোন ফাংগাস অ্যাটাকে না ভুগে। এই কাজে বেস্ট একটি মেডিসিন হল এটা https://aquarium.com.bd/product/api-pimafix-treats-fungal-infections237ml/

প্রতিরোধ

যে কোন রোগই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। এর প্রতিকারের উপায় খুবই সহজ। যেটা হল পানির ওয়াটার কন্ডিশন একেবারে দুর্দান্ত রাখা। এটির জন্য দরকার আপনার দরকার হবে ভালো মানের একটি হব ফিল্টার। যা আপনার পানির কন্ডিশন ভাল রাখবে।

ভাল হব হিসাবে আমাদের সাজেশন হল এই হব ফিল্টারটি ব্যাবহার করা।

DoPhin H80 Hang On Back Filter

আর পানি পরিবর্তনের পর অবশ্যই অ্যান্টি ক্লোরিন এবং ভালমানের কন্ডিশনার ব্যাবহার করা। ভালমানের অ্যান্টি ক্লোরিন হিসাবে ব্যাবহার করতে পারেন নীচের অ্যান্টি ক্লোরিনটি https://aquarium.com.bd/product/aquartia-chloroguard200ml/

যেহেতু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম আপনাকে অবশ্যই আপনার বেট্টা ট্যাঙ্কের সর্বোচ্চ কেয়ার নিতে হবে যেন ওয়াটার কন্ডিশন কখনোই খারাপ না হয়।

সুইম ব্লাডার

বেট্টার একটি মারাত্মক রোগ হল সুইম ব্লাডার ডিজিজ। এটাও খুব কমন একটি বেট্টার রোগ। এই রোগ হলে বেট্টা ঠিকমত সাতার কাটতে পারে না। একপাশে কাত হয়ে সাতার কাটতে থাকে। অনেক সময় সাতার কাটতে গিয়ে সামনে আগাতে পারে না উল্টে পাল্টে যেতে থাকে। এটি আসলে একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এই রোগের জন্যও দায়ী পানির আপনার ট্যাঙ্কের পানির খারাপ কন্ডিশন।

প্রতিকার

সুইম ব্লাডারে আক্রান্ত বেট্টাকে একটি হসপিটাল বা কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্কে নিতে হবে। পানির ওয়াটার লেভেল এমন রাখতে হবে যেন তার সবচে উপরের ফিন বা পাখনার কয়েক ইঞ্চি উপরে পানি থাকে। কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্ক হিসাবে নিতে পারেন এই ট্যাঙ্কটি https://aquarium.com.bd/product/15x15x15-glass-aquarium-tank/

কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্কে প্রতিদিন ৩০% পানি পরিবর্তন করে ফেলে দিতে হবে। এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের জন্য এই মেডিসিন ব্যাবহার করতে হবে।

API Melafix- Treats Bacterial Fish Infections(237ml)

এবং অতি অবশ্যই কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্কে হিটার দিতে হবে হিটার হিসাবে নিতে পারেন এটি। এরকম একটি কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্কের জন্য ৫০ ওয়াটের হিটারই যথেস্ট  

RS Electrical Automatic Aquarium Heater(RS-50W)

হোয়াইট স্পট বা ইক 

তাপমাত্রার পরিবর্তন, সাধারনত বেট্টা ফিশকে  দুর্বল থাকলে, স্ট্রেসড থাকলে এবং পানির তারতম্য ঘটলে বা আরো একটু স্পেসিফিকেলি বলতে গেলে হুট করে পানির PH এর তারতম্য ঘটলে মাছের এই হোয়াইট স্পট বা ইক হয়।

কিভাবে হোয়াইট স্পট প্রতিরোধ করবেন ?

আমরা সবাই জানি যে প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ সব সময় শ্রেয়তর। কাজেই হোয়াইট স্পট প্রতিরোধ করাটাই সবচে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

১। সঠিক নিয়মে মাছ ট্যাঙ্কে ছাড়া :

সঠিক নিয়মে মাছ ট্যাঙ্কে ছাড়তে হবে। ট্যাঙ্কে নতুন মাছ ছাড়বেন প্রথমে কিছুক্ষণ মাছের পলিথিনটি ট্যাঙ্কে ভাসিয়ে রাখুন, ১০-১৫ মিনিট পর ট্যাঙ্ক হতে অল্প পানি নিয়ে আস্তে আস্তে পলিথিনে ভরতে হবে। এর পর একটি বালতি বা পাত্রের উপর একটি নেট ধরে ব্যাগ থেকে মাছ ট্যাঙ্কে ছাড়তে হবে।

এখানে সর্বাপেক্ষা গুরত্বপুর্ন হল কোন অবস্থাতেই পলিথিনের পানি যেন ট্যাঙ্কে প্রবেশ না করে।

আপনার যদি একাধিক ট্যাঙ্ক থেকে থাকে তাহলে প্রতিটি ট্যাঙ্কের জন্য আলাদা আলাদা নেট ইউজ করবেন। ভুলেও এক নেট সকল ট্যাঙ্কে দিবেন না।

দারুণ সব ফিশ নেট কিনে নিতে পারেন আমাদের থেকে। অনলাইন অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন

 

কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্ক :

কোয়ারাইন্টাইন বা হসপিটাল ট্যাঙ্ক হল ছোট একটি ট্যাঙ্ক যেখানে বাজার থেকে নতুন মাছ এনে প্রথমেই মূল্ ট্যাঙ্কে না রেখে এখানে রাখা। দরকারে ১ সপ্তাহ পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষন করা। এরপর তাকে মূল ট্যাংকে স্থানান্তর করা।

কিভাবে বানাবেন একটি পারফেক্ট কোয়ারাইন্টাইন বা হসপিটাল ট্যাঙ্ক ?

ট্যাঙ্ক :

কোয়রারাইন্টাইন ট্যাঙ্কের জন্য অনেকে ১০-১২ গ্যালনের ট্যাঙ্ক বানাতে বলে তবে আমার সাজেশন থাকবে নীচের লিংকের ১৫ কিউবের ট্যাঙ্কটি নেওয়ার

ট্যাঙ্কটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

ফিল্টার :

এই ট্যাঙ্কের জন্য সবচে পারফেক্ট হবে এই ফিল্টারটি। এখানে ক্লিক করুন।

হিটার :

কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্কে অবশ্যই হিটার লাগবে। নীচের লিংকের দেওয়া হিটারটি আপনার জন্য পারফেক্ট হবে

https://aquarium.com.bd/product/rs-electrical-automatic-aquarium-heaterrs-100w/

থার্মোমিটার :

সুনির্দিস্ট তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য যে কোন কোয়ারাইন্টাইন বা হসপিটাল ট্যাঙ্কে থার্মোমিটার অপরিহার্য। নীচের লিংকের থার্মোমিটারটি হবে এক্ষেত্রে পারফেক্ট।

https://aquarium.com.bd/product/resun-aquarium-thermometer/

লাইট :

কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্কেও লাইট লাগবেই। আপনার এই ট্যাঙ্কের জন্য সবচে ভাল হবে এই লাইটটি।

https://aquarium.com.bd/product/ast-exquisite-bright-x3/

ব্যাস হয়ে গেল আপনার কোয়ারাইন্টাইন ট্যাঙ্ক। এখানে একটি জিনিস উল্লেখ্য যে মাছের সাথে সাথে গাছের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কাজ করে। কাজেই দোকান বা অন্য হবিস্টদের থেকে গাছ আনলে সেটাকে প্রথমে এই ট্যাঙ্কে রাখুন। না হলে আপনার মূল ট্যাঙ্কে মাছের হোয়াইটস্পট বা ইক গাছের বয়ে নিয়ে যাওয়া জীবাণু থেকেও হতে পারে।

হোয়াইট স্পট বা ইক হয়ে গেলে প্রতিকার কি করে করবেন ?

১। একুরিয়ামে কোন মাছের মধ্যে রোগের লক্ষন দেখা মাত্র মাছটিকে ট্যাঙ্ক থেকে আলাদা করে কোয়ারাইন্টাইন বা হসপিটাল ট্যাঙ্কে নিতে হবে । যদি প্লান্টেড ট্যাঙ্ক না হয় তবে মাছ গুলোকে মেইন ট্যাঙ্কে রেখেই চিকিৎসা করা ভাল। ২. প্রথমেই ট্যাঙ্কের ৯০% পানি পরিবর্তন করুন (যদিও এটি নিয়ে বিতর্ক আছে তবে আমরা এতে ভাল ফল পেয়েছি ) ৩. ট্যাঙ্কে হিটার সংযুক্ত করুন এবং প্রতি ঘণ্টায় পানির তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি করতে থাকুন যতক্ষণ না পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। ৪. ট্যাঙ্কের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখুন ১০ দিন পর্যন্ত। ৫. ট্যাঙ্কের ফিল্টারে কোন মিডিয়া থাকলে তা পরিবর্তন অথবা ভাল করে পরিস্কার করুন। ৬. পানিতে এক্সট্রা এয়ার স্টোন অথবা স্পঞ্জ ফিল্টার এড করতে পারেন ৭. যদি ট্যাঙ্কে ইল/লোচ অথবা ক্যাট ফিশ ধরণের মাছ না থাকে সে ক্ষেত্রে ট্যাঙ্কে লবন এড করতে পারেন। অবশ্যই আয়োডিনযুক্ত লবন পরিহার করতে হবে। বাজারে বেশীরভাগ লবনেই আয়োডিন আছে তাই সেসব না দিয়ে আমার সাজেশন থাকবে মেরিন ট্যাঙ্কের লবন ব্যাবহার করতে। ব্যাবহার করতে পারেন রেড সি প্রো সল্ট। কিনতে নীচের লিংকে ক্লিক করুন

https://aquarium.com.bd/product/red-sea-coral-pro-salt-1kg/

৮. ১-২ টেবিল চামচ প্রতি ৫ গ্যালন পানিতে ব্যাবহার করতে পারেন। ছোট এবং দুর্বল মাছের জন্য কম পরিমান এবং বড় মাছের জন্য বেশি পরিমান লবন ব্যাবহার করতে পারেন। ৯. লবন কখনই সরাসরি ট্যাঙ্কে দিবেন না। অবশ্যই ছোট মগ অথবা বোতলে আগে গলিয়ে নিবেন এর পরে লবন গোলা পানি একুরিয়ামে যুক্ত করবেন। ১০. প্রতিদিন ৭৫% পানি পরিবর্তন করুন কিন্তু অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যাতে পানিতে ক্লোরিন বা ব্লিচ না থাকে। ( এজিং করা পানি ব্যাবহার করা সব থেকে নিরাপদ) ১১. মৃত মাছ সাথে সাথে ট্যাঙ্ক থেকে সড়িয়ে ফেলুন। আক্রান্ত ট্যাঙ্ক এ কাজ করে অন্য কোন ট্যাঙ্কে কাজ করতে গেলে অবশ্যই হাত ভাল করে ধুয়ে নিবেন। ১২. মাছের গা থেকে সাদা স্পট চলে যাবার পরেও তিনদিন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যান। ১৩. ১০-১৫ দিন এই চিকিৎসা চলতে পারে।

প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ উত্তম। কাজেই হোয়াইটস্পট বা ইচের বির‍্যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। কোয়ারাইন্টাইন বা হসপিটাল ট্যাঙ্ক বানান।

যোগ দিন আমাদের ফেসবুক পেইজে

আরো পড়ুন

আসুন তৈরি করি একটি বেট্টা ট্যাঙ্ক !

মাত্র ২৫০০ টাকায় তৈরি করুন আপনার প্রথম লো টেক প্ল্যান্টেড টেক !

হব ফিল্টার : বেস্ট ফিল্টার ফর বিগিনার্স

ভার্টিকেল ওয়ালগার্ডেন সাইনবোর্ড

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *